রবিবার, মার্চ ৩, ২০২৪
আয়া পদে চাকরির জন্য স্কুল সভাপতির বোনের আবেদন
আয়া পদে চাকরির জন্য স্কুল সভাপতির বোনের আবেদন। ছবি: প্রতিনিধি

আয়া পদে চাকরির জন্য স্কুল সভাপতির বোনের আবেদন

রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : January 25, 2024 | শিক্ষাঙ্গন

প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে রংপুর নগরীর রাধাকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে নিয়োগ চূড়ান্তকরণে বিভিন্ন অপচেষ্টা চলছে বলে দাবি করছেন এলাকাবাসীর।

ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে অভিভাবকসহ স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেন।

নিয়োগের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে মানববন্ধনে বিক্ষুব্ধরা বলেন, রাধাকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতাধিক। বিদ্যালয়টিতে একসময় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ছিল। এখন নানামুখী সমস্যায় জর্জড়িত। সব সমস্যা পুঞ্জীভূত রেখে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। অনেকদিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পদে কোনো লোকবল নেই। এ পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে লোক থাকলেও নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ওই পদে লোক নিয়োগের কথা বলা হয়নি। শুধু সহকারী প্রধান শিক্ষক, নৈশ্যপ্রহরী ও আয়া পদে দুই দফা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অংকের দর-কষাকষিতে ব্যস্ত সবাই। তিনটি পদের বিপরীতে মাত্র দুটি পদে আবেদন জমা হয়েছে।

মানবনন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুদ্দিন আজাদ তার আপন বোনকে আয়া পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। যদিও বয়স বিবেচনায় ওই পদে তার বোনের চাকরির জন্য আবেদনের সুযোগ নেই। কিন্তু জাল কাগজপত্র তৈরি করে নিয়োগ চূড়ান্তকরণের চেষ্টা করছেন। নৈশ্যপ্রহরী পদেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে বিভিন্নভাবে আলোচনা করে যাচ্ছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি। অনেকের কাছ থেকে টাকাও নেওয়া হয়েছে। আগের প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করে গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে প্রধান শিক্ষকের পদে ৩বার রদবদল হয়েছে বলেও জানান তারা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে রাধাকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম কাজল বলেন, আমরা এখনো কাউকে নিয়োগ দেইনি। পরপর দুইবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও এখনো একটি পদে কোনো আবেদন পড়েনি। এখন যারা অভিযোগ তুলছেন তারা আমার কাছে অন্যায় আবদার করেছেন। আমি তাদের কোনোভাবে আশ্বাস দিতে পারিনি বলেই তারা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন। অথচ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য বলেন, বিদ্যালয়ে তিনটি পদে নিয়োগ দিতে পরপর দুবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আবেদনের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে কোনো আবেদন জমা হয়নি। তবে আয়া এবং নৈশ্যপ্রহরী পদে অনেকে আবেদন করেছেন।

তবে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শামসুদ্দিন আজাদ বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াতো চূড়ান্ত হয়নি, তাহলে বাণিজ্যের অভিযোগ আসে কেন? আমার বোনকে নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেটা মোটেও সঠিক নয়। কেউতো আমাকে নিয়োগের ব্যাপারে অভিযোগ করেননি। তারপরও কেউ যদি নিয়োগ নিয়ে আপত্তি তুলে থাকেন, তাহলে আমরা ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে বসে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আরো দেখুন: 

চুক্তিভিত্তিক প্রধান শিক্ষক-অধ্যক্ষ নিয়োগ স্থগিত করলো মন্ত্রণালয়

প্রতিষিদ্ধ/এমএমএম