রবিবার, মার্চ ৩, ২০২৪
নির্মাণাধীন আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ প্রকল্পঃ একটি আর্থসামাজিক সমীক্ষা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন
নির্মাণাধীন আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ প্রকল্পঃ একটি আর্থসামাজিক সমীক্ষা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন

নির্মাণাধীন আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ প্রকল্পঃ একটি আর্থসামাজিক সমীক্ষা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন

প্রতিষিদ্ধ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : May 26, 2022 | প্রকৃতি

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে  ২৬ মে বৃহস্পতিবার, সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব-এর তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হল (সাবেক ভিআইপি লাউঞ্জ) ঢাকায়, “নির্মাণাধীন আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ প্রকল্পঃ একটি আর্থসামাজিক সমীক্ষা”- শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  বাপা’র নির্বাহী সদস্য ও অর্থ, বাণিজ্য ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক কমিটির সদস্য সচিব, এম এস সিদ্দিকী’র সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ‘র সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল এর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আশিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক ও বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক ও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ আহমেদ কামরুজ্জমান মজুমদার এবং আশুগঞ্জ নির্মাণাধীন প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা ফরিদুল ইসলাম ফরিদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ন কবির সুমন, বাপা’র নির্বাহী সদস্য ও নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ রানা এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর গবেষণা ব্যবস্থাপক রিয়াসাত নূর ।

প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে আশিকুর রহমান বলেন, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ প্রকল্প প্রথমে ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা নিলেও, সরকার গতবছর তা বাতিল করে এল এন জি অথবা নবায়নযোগ্য  জ্বালানী ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সম্প্রতি তা ২৪০০ মেগাওয়াটের এল এন জি ভিত্তিক প্লান্ট নির্মাণ করবে বলে জানা যায়। প্রকল্প নির্মাণকালে ৩ ফসলী কৃষিজমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণে ব্যাপক অনিয়মের পাশাপাশি ২৯ কিলোমিটার পানিপথ ভরাট করা হবে বলে তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। তিনি এই প্রকল্পসহ আশপাশের শিল্পায়ন কলাপাড়া এলাকার নদী, পানি ও মৎস্য সম্পদসহ সাধারণ মানুষের জন্য যেসকল নেতিবাচক প্রভাবসমূহ ফেলবে তা স্থানীয় জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতে আরও অনুসন্ধান ও  পর্যালোচনার জন্য এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান ।  

সভাপতির বক্তব্যে এমএস সিদ্দিকী বলেন, বাপা কখনই উন্নয়নের বিপক্ষে নয়। কিন্তু যে উন্নয়ন দেশের কৃষি, পরিবেশ, নদী, জীববৈচিত্র ও প্রাণীসম্পদ ধ্বংস করে সে উন্নয়ন আমরা চাই না। তিনি সম্ভাব্য অভিঘাতসমূহ সঠিকভাবে পর্যালোচনা করে দেশের সকল কয়লা ও এল এন জি ভিত্তিক বিদুৎ প্রকল্পগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রুপান্তরের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান ।

বাপা’র সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল দেশের বিদ্যুৎ প্রকল্পসমূহ যেন দেশের সামগ্রিক পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব না পড়ে সেদিকে সরকারের সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান। কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানীভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসমূহ যেন এসডিজি বাস্তবায়নে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় সেজন্যও সরকারের সজাগ দৃষ্টি থাকতে হবে। কলাপাড়ায় চলমান শিল্পায়ন দেশের মৎস্য সম্পদ, বিশেষভাবে ইলিশ এবং তরমুজ উৎপাদনের উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি ঐ অঞ্চলে টেকসই উন্নয়নকল্পে যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।  

আশুগঞ্জ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকার স্থানীয় ভুক্তভোগী ফরিদ উদ্দিন বলেন, এখানে যে বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হচ্ছে তা সম্পূর্ণ তিন ফসলি জমিকে নষ্ট করেছে। তিনি তিন ফসলি জমি রক্ষার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে আশেপাশের মানুষের জীবিকা, বাস্তুসংস্থান এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রাক্বালে যথাযথ ও স্বচ্ছ প্রভাব নিরূপণের দাবী জানানো হয়।