সোমবার, জুলাই ১৫, ২০২৪
মাদরাসা সুপারের সঙ্গে শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল
মাদরাসা সুপারের সঙ্গে শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল। প্রতিকী ছবি

মাদরাসা সুপারের সঙ্গে শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল

রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশের সময় : June 20, 2023 | রংপুর

দাখিল মাদরাসার সুপার ও সহকারী শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উত্তরের জেলা রংপুরের বদরগঞ্জে এবার লোহানীপাড়া দাখিল মাদরাসার ২ শিক্ষকের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ছবি ফাঁসের পর থেকে ওই শিক্ষক-শিক্ষিকা দুইজনেই গা ঢাকা দিয়েছেন। দুদিন ধরে তারা মাদরাসায়ও আসছেন না।

এর আগে বদরগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এই দুই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই উপজেলার দুই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের এমন ঘটনায় এলাকার অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ জুন) দুপুরে লোহানীপাড়া দাখিল মাদরাসার সুপার ও সহকারী শিক্ষিকার ওই অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরালের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদরাসার সহকারী সুপার কাজী নজরুল ইসলাম। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসা সুপার আজিজার রহমানের বাড়ি উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামে। আর সহকারী শিক্ষিকার বাড়ি বগুড়া জেলায়।

৩ বছর আগে এনটিআরসির আওতায় আইসিটির সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ওই মাদরাসায় যোগদান করেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকা। যোগদানের পর থেকে উপজেলা পরিষদের পাশে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সেখানে মাদরাসা সুপার আজিজার রহমান প্রায়ই যাওয়া আসা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, মাদরাসার সুপার ও শিক্ষিকার এমন অন্তরঙ্গ মুর্হূতের ছবি দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েছি। যদি তারা এমন অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকেন তাহলে মাদরাসায় সন্তানদের নিরাপত্তা আমরা কার কাছে পাব এখন শিক্ষক-শিক্ষিকারা যদি এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটায় এর প্রভাব তো শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পড়তে পারে।

ওই মাদরাসার সহকারী সুপার কাজী নুরুল ইসলাম বলেন, আমি স্মার্টফোন ব্যবহার করি না। ওইসব বিষয় বুঝি না। তারপরও আমাকে একজন ওই ছবিগুলো দেখানোর পর আমি সুপারকে বিষয়টি জানিয়েছে কিন্তু তিনি গুরুত্ব দেননি। উল্টো তার দাবি কিছু মানুষ নাকি ষড়যন্ত্র করে এমন ছবি ছড়িয়েছে। তবে ওই ঘটনার পর থেকে সুপার এবং সহকারী শিক্ষিকা মাদরাসায় আসছেন না।

এদিকে সুপার আজিজার রহমান ও সহকারী শিক্ষিকার ফোন বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সামছুল হক বলেন, পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে সুপার তিন দিনের ছুটি নিয়েছেন। আমি শুনেছি সুপার ও সহকারী শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ মুর্হূতের ছবি ভাইরাল হয়েছে। আমি তাদের ওসব ছবি দেখিনি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ওই সুপার ও শিক্ষিকার ছবি ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি মিডিয়া থেকে জেনেছি। এ রকম ঘটলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে বদরগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) চম্পাতলী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর পরদিন শুক্রবার বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির এক জরুরি সভা শেষে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে।

প্রতিষিদ্ধ/এএইচ