সংবাদকর্মী নিয়োগে মাদরাসার শিক্ষার্থী দেখলেই আঁতকে উঠতেন মুস্তাফিজ শফি

২০১৮ সালের কোন এক সন্ধ্যায় দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক থাকার সময় কাজের আশায় তার অফিসে অপেক্ষা করতে থাকেন সংবাদকর্মী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর (ছদ্মনাম)। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর মুস্তাফিজ শফির দেখা পান জাহাঙ্গীর। পরে তার কাছে পূর্বের সকল কর্মের বৃত্তান্ত বর্ণনা করেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর (ছদ্মনাম)।

এরপর মুস্তাফিজ শফি সেই সংবাদকর্মীর কাছে লিখিত জীবনবৃত্তান্ত চাইলে তিনি সেটিও উপস্থাপন করেন। পরে সেই জীবন বৃত্তান্তে চোখপড়া মাত্র শফি অবাক হয়ে এককথায় বলে উঠেন আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে মানানসই হয় না। তারপরও আপনি সিভি রেখে যেতে পারেন।

পরে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের (ছদ্মনাম) দৈনিক সমকালে কাজ করার ইচ্ছে সেখানেই কবর দিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন। কারণ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের জীবনবৃত্তান্তের মাদরাসার সনদের উল্লেখ থাকাই তার কাজের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়। বৈষম্যেমর শিকার হন সমকালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। মাদরাসার সনদ অবাক করে দেয় মুস্তাফিজ শফিকে।

মুস্তাফিজ শফি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত। কাজ করেছেন প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, আজকের কাগজ সহ বেশ কিছু জাতীয় দৈনিকে। তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশ সংবাদপত্রের প্রথম সম্পাদক। ১৯৭১ সালের ২০ জানুয়ারি সিলেটের বিয়ানীবাজারে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফিজ শফি। তার পৈতৃক বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের আস্টসাঙ্গন গ্রামে।

মুস্তাফিজ শফি ১৯৮৭ সালে জলঢুপ দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৮৯ সালে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৯১ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও ২০০০ সালে বাংলায় স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

১৯৮৮ সালে সাপ্তাহিক সিলেট সংবাদ ও লন্ডনের সাপ্তাহিক সুরমায় লেখালেখির মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন মুস্তাফিজ শফি। এরপর কাজের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিউজ অ্যান্ড ফিচার সার্ভিসের হয়ে দৈনিক লাল সবুজে দুই মাস চাকরি করেন। একই বছরের আগস্ট মাস থেকে ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দৈনিক আজকের কাগজে নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত দৈনিক মানবজমিনে নিজস্ব প্রতিবেদক এবং ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দৈনিক প্রথম আলোয় নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দেন। একই পত্রিকায় পরবর্তী সময়ে জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও উপ-প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে ২০০৪ সালের মার্চ পর্যন্ত কাজ করেন।

২০০৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০০৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দৈনিক আমার দেশে বিশেষ প্রতিনিধি, উপ-প্রধান প্রতিবেদক ও পরে যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দৈনিক সমকালে বার্তা সম্পাদক, ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দৈনিক কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক ও একই পদমর্যাদায় পরিকল্পনা সম্পাদক, ২০১১ সালের আগস্ট থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত দৈনিক জাগরণে (প্রকাশিতব্য) নির্বাহী সম্পাদক এবং ২০১২ সালের মার্চে দৈনিক সমকালে নির্বাহী সম্পাদক পদে যোগ দেন। পরে তিনি সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের পহেলা এপ্রিল মোস্তাফিজ শফি প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *