দখলদার থেকে মুক্ত নন তিনিও

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি নিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রায় তিন একর জমি জবরদখলের চেষ্টা করছে প্রভাবশালী একটি মহল। ঘটনাটি উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বালাখুড়ী এলাকায় ঘটে। ভুক্তভোগী মো. রেজাউল করিম টেপ্রীগঞ্জ আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে রেজাউল করিমের পিতা তোজাম্মেল হোসেন ও রোস্তম আলীর পিতা আব্দুর রাজ্জাক মোট ১০.০৪ একর জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে আপোষনামার মাধ্যমে জমি ভাগাভাগি হয়। এতে রেজাউল করিমের পরিবারের ভাগে আসে ৩.০০ একর জমি, যা তিনি শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ করে আসছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রোস্তম আলী ও তার ভাই জুয়েল রানা স্থানীয় কিছু দখলবাজের সহযোগিতায় জমিটি দখলের ষড়যন্ত্রে নেমেছে। ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর বর্গাচাষীরা জমিতে হালচাষ করতে গেলে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে শিক্ষক রেজাউল করিম একাধিকবার আদালত ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হন এবং ১৪৪, ১৪৫ ও ১৮৮ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

এরই মধ্যে প্রতিপক্ষ জুয়েল রানা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দায়ের করে। এলাকাবাসীর দাবি, মামলাগুলো সাজানো ও উদ্দেশ্যমূলক। সর্বশেষ ২৮ জুলাই জমিতে রোপা আমন লাগানোর সময় বাধা ও হামলার ঘটনায় শিক্ষকের দুইজন লোক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

স্থানীয়রা জানান, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য বেড়ে যাওয়ায় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী দখলের চেষ্টা করছে। একাধিকবার সালিসি বৈঠকের চেষ্টা হলেও বিবাদীরা হাজির হননি। ফলে সমাধান সম্ভব হয়নি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল গণি বসুনিয়া বলেন, “স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু অপর পক্ষ কোনো বৈঠকে অংশ নেয়নি।”

দীর্ঘদিন ধরে আইন-আদালত ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের জন্য ঘুরে বেড়ালেও এখনও স্থায়ী সমাধান পাননি শিক্ষক রেজাউল করিম। তার একটাই দাবি, জোরপূর্বক দখল বন্ধ করে নিজের বৈধ জমির দখল ফেরত দেওয়া হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *