গ্যাসবিহীন আমিনবাজার, দুই মাসের ঘোর নীরবতা

ধীরে ধীরে বয়ে যাচ্ছে এক অজ্ঞাত সময়ের নিস্তব্ধতা। আমিনবাজার (সাভার) এলাকায় কিছু ব্যবহারকারীর দাবি, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে গ্যাস নেই। রান্নাঘরের চুলা নিভে গেছে, খাবার তৈরির সময় বাড়ছে, বিকল্প মাধ্যম খরচ বেড়েছে।

গ্যাস কোম্পানির তরফে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা পাওয়া যায়নি; স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন এই সংকট শুধু “কাজ বিঘ্ন” নয়, এটি তাদের জীবনের একটা মৌলিক অংশ থেমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা।

রান্নাঘরের গ্যাস নষ্ট হলে এক-একবার হয়তো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যায়- এলপিজি সিলিন্ডার, কাঠের চুলা। কিন্তু দুই মাসের বেশি সময় ধরে এইভাবে চললে ব্যয়সহ কার্যকারিতা আসে বসে।

এক মহিলা বলছেন, “প্রতিদিন ভেবে বসি আজ কোন বিকল্প দিয়ে খাবার করবো, কিন্তু বিকল্প একবারের জন্যে, বারবার নয়।”

এদিকে বহু দোকান-ব্যবসায়ীও ক্ষোভ করছেন। রেস্টুরেন্ট, খাবার দোকান, ক্যাফের মতো জায়গায় গ্যাস না থাকায় সময় মতো রান্না শেষ হচ্ছে না, গ্রাহক হারিয়ে যাচ্ছে। “আলো নেই, রান্নাঘর বন্ধ পাচ্ছি না”, এক দোকানদার বললেন।

গ্যাস সংযোগ বিঘ্ন ঘটলে সবার প্রথম প্রশ্ন হয় কেন? পাইপ লিকেজ, চাপ কমে যাওয়া, মেরামতের কাজ অথবা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ার কারণ থাকতে পারে। কিন্তু দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে হয়তো “অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক সমস্যা”, “বরাদ্দ হ্রাস” বা “নিরীক্ষায় বিলম্ব”ও থাকতে পারে।

এই ক্ষেত্রে শুধুই ভুক্তভোগীর ভরসা হয় ‌“কবে ফিরে আসবে?”, “কত-দিন আরও করণীয়?”, “কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না?” এসব প্রশ্ন উত্তরহীন রয়ে যায়।

সংস্থা দাবি করেছে মেরামত চলছে, শিগগির গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করবে। কিন্তু বাসিন্দাদের কাছে সে দাবির “ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা” অনুপস্থিতি দেখাচ্ছে। দুই মাসের বেশি সময় বিশ্বস্ত ব্যবহার না পাওয়া মানে একদিকে ঘরে রান্নার চুলা নিভে যাওয়া, অন্যদিকে সামাজিক পরিবেশে যেন “দায়বদ্ধতা না থাকা”-র প্রতিফলন।

এখানে প্রশ্ন ওঠে গ্যাস কোম্পানি/স্থানীয় প্রশাসন কি পর্যাপ্তভাবে খুঁজে পেয়েছে সমস্যার মুল? বিকল্প ব্যবস্থা দিয়ে সমস্যা কমানো গেল কি না? ক্ষতিপূরণ বা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে কি না?

বাড়িতে গ্যাস না থাকায় মায়েরা বলছেন, বড় সময় ধরে গ্যাস না থাকলে “আমরা রান্নাঘরেই পরাজিত”। বৃদ্ধ মানুষ, শিশুদের খাবার তৈরিতে বড় রকম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

আহ্বান:

দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে দেওয়া হোক গ্যাস ফিরিয়ে আনবার।

দুই মাসের বেশি সময় গ্যাসবিহীন থাকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিপূরণ বা ভর্তুকির ব্যবস্থা হোক।

ভবিষ্যতে এমন দীর্ঘ সময় গ্যাসবিহ্নিত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য মনিটরিং, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যাকআপ সুইচ থাকা প্রয়োজন।

পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে অবহিত রাখা হোক কবে গ্যাস ফিরবে, বিকল্প ব্যবস্থায় কি খরচ পড়বে, এসব তথ্য সহজভাবে জানানো হোক।

এই পরিস্থিতি শুধু আমিনবাজারের নয়, এমন ঘটনা ঘটে গেলে পুরো নগর-জীবন বিপর্যস্ত হয়। রান্নাঘর থেকে ব্যবসা, পরিবার থেকে সামাজিক নিরাপত্তা, সবই প্রভাবিত হয়।
আমরা আজ শুধু “গ্যাস নেই” বলছি না, আমরা বলছি, “মানুষের স্বাভাবিক জীবন যত দ্রুত ফিরিয়ে আনবে, তা ততই গুরুত্বপূর্ণ”।

আমাদের আহ্বান হলো: আজই প্রশাসন, গ্যাস কোম্পানি, সক্রিয় হোক। মানুষ-মানবিক জীবনকে ফের জ্বালাতে হবে। গ্যাসসহ জীবনের চালিকা শক্তি যেন আবার আগুন ধরে—রান্নাঘরে, বাজারে, প্রতিটি বাড়িতে।

লেখক: ওমর ফারুক, গণমাধ্যম কর্মী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *