ফিরোজ আলমগীরের ‘নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে’ জয়পুরহাটে এনসিপির ক্ষোভ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
এনসিপি জয়পুরহাট জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে অভূতপূর্ব আলোড়ন ও ক্ষোভের ঝড়। দলটির সাবেক জেলা প্রধান সমন্বয়ক ফিরোজ আলমগীর যে ভাষায় পদত্যাগপত্র দিয়ে দলের সিদ্ধান্তকে “অস্বচ্ছ, অপমানজনক ও বিভ্রান্তিকর” বলে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন— তার অল্প কিছুদিন পরই তিনি আবার জেলা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ আরও প্রকাশ্য হয়েছে।

দলের ভেতরে অসন্তোষ আর গোপনে নেই। অনেকে সরাসরি বলছেন—
“যে ব্যক্তি দলকে অপমান করে চলে গেলেন, তিনিই আবার উচ্চপদে ফিরে এলেন— এতে দলের মর্যাদা কোথায় দাঁড়ায়?”

মাঠপর্যায়ের নেতাদের অভিযোগ,
“এটি রাজনৈতিক ভণ্ডামির প্রকাশ্য উদাহরণ। পদত্যাগ ছিল নাটক, আর ফিরে আসা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত সমঝোতার ফল। এতে দলের চরিত্র, নীতি ও স্থিতিশীলতা— সবকিছুই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।”

আরও অনেকে আরও কঠোর ভাষায় মন্তব্য করছেন—
এনসিপি জয়পুরহাটে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছেতা এই দ্বিমুখী সিদ্ধান্তের ফলাফল। এতে নেতৃত্বের সততা ও শৃঙ্খলা দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
ফিরোজ আলমগীরের পরস্পরবিরোধী অবস্থান শুধু দলের ভেতরেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এনসিপির প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি করেছে। পদত্যাগপত্রে তোলা অভিযোগের বিপরীতে নিজেই দায়িত্ব গ্রহণ করায় দলকে দুর্বল, অস্থির ও নীতিহীন হিসেবে দেখাচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

অন্যদিকে দায়িত্ব ফিরিয়ে নেওয়ার পর ফিরোজ আলমগীর জানিয়েছেন—
“কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তেই আমি দায়িত্ব নিয়েছি।”
তবে তার এই সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দলের মধ্যকার ক্রোধ কমাতে পারেনি।

বর্তমানে দলের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটাই প্রশ্ন—
এনসিপি কি দলীয় নীতি ও আদর্শে চলবে, নাকি ব্যক্তিগত সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে?

জয়পুরহাট জেলা জুড়ে এই ঘটনার প্রভাব এখন এনসিপির ভাবমূর্তি, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *