প্রহসনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির চেষ্টা হলে জাতি চুপ থাকবে না: ড. হেলাল


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শাহবাগ পশ্চিম থানার উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) বিকেলে শাহবাগ পশ্চিম থানা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে কম্বল বিতরণ পূর্বক অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। শাহবাগ পশ্চিম থানা নায়েবে আমীর ডা. মেসবাহ উদ্দিন সায়েমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শাহবাগ পশ্চিম থানা সেক্রেটারি এম. লোকমান হোসেন, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আলফেসানী, মানারত ইউনিভার্সিটির শিক্ষক তানভীর আহমেদ, শাহবাগ পশ্চিম থানা সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মাইনুদ্দীন ভূইয়াসহ থানার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, মানুষের মৌলিক ৫টি অধিকার রাষ্ট্র নিশ্চিত করার বিধান থাকলেও অতীতের কোনো সরকার মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেনি। তারা তাদের নিজেদের সুটকেস ভর্তি করার কাজে ব্যস্ত ছিল। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির সৎ, যোগ্য, আল্লাহভীরু, নৈতিক ও আদর্শিক নেতৃত্ব তৈরি করছে। যার দৃষ্টান্ত ঢাবির শিক্ষার্থীরা সহ পুরো দেশবাসী দেখতেছে। ডাকসুতে ইসলামী ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল বিজয়ী হওয়ার পর মাত্র ২ মাসে যা করেছে বিগত ৫৪ বছরে তা কেউ ঢাবি শিক্ষার্থীদের জন্য করেনি, করতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে একই ভাবে রাষ্ট্রের অভাবনীয় পরিবর্তন ঘটিয়ে দেশকে একটি কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করবে।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার রাজনীতি করে না; জামায়াত মানুষের কল্যাণে নিবেদিত সংগঠন। জামায়াতে ইসলামী ৪ দফা কর্মসূচিতে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। তারমধ্যে অন্যতম একটি সমাজ সংস্কার ও সমাজ সেবা। সামাজিক সেবামূলক যেকোন কাজ জামায়াতে ইসলামী দলমত, ধর্ম বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে পরিচালনা করে আসছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এই ধারা অব্যাহত রেখে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। নিজের নাগরিক অধিকার বুঝে নিতে আগামী নির্বাচনে যেকোন ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রশাসনে দলীয়করণের ফলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রশাসনের একটি অংশ একটি দলের পক্ষপাতিত্ব করছে। এমতাবস্থায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জাতি শঙ্কিত। তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পক্ষপাতিত্ব পরিহার করে জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন উপহার দিতে আহ্বান জানান। এসময় তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের প্রহসনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করলে জাতি চুপ করে বসে থাকবে না। সঙ্গে সঙ্গে প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করবে। ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ করতে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য গণভোটে ‘‘হ্যাঁ’’ ভোট দিতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *