কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণী। প্রেমিক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রাখলেও এখন তাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন।
গত ১৯ জুন থেকে আজ ০২রা জুলাই পর্যন্ত উপজেলার পশ্চিম শিদলাই গ্রামের একটি বাড়িতে অবস্থান নিয়ে আছেন তিনি। অনশনরত তরুণীর নাম নুসরাত জাহান। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ভূয়ারপাড়া গ্রামে।
তিনি বলেন, প্রায় চার বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামের আবু কালামের ছেলে আবু সাঈদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ চলত এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়েই সম্পর্ক বজায় রাখেন সাঈদ।
নুসরাতের অভিযোগ, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের কথা বলে আবু সাঈদ তাকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার চড়বাকর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন রাখার পর কোনো কিছু না জানিয়েই তিনি চলে যান। পরে বিভিন্নভাবে ঠিকানা সংগ্রহ করে ১৯ জুন সাঈদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান নুসরাত। তবে তার উপস্থিতির খবর পেয়ে সাঈদ ও পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অনশনরত তরুণী বলেন, হয় সে আমাকে বিয়ে করবে, না হয় এই বাড়িতেই আমার মৃত্যু হবে।” তিনি দাবি করেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতির কারণেই তিনি এই সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চান।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল জানান, বিষয়টি জানার পর উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ছেলের পরিবারের কাউকে বাড়িতে পাওয়া না যাওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান সম্ভব হয়নি।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের খুঁজে না পাওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
